Header Border

চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

চাঁদপুর জেলা

চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে চাঁদপুর বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে এ জেলা অবস্থিত। ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল হিসেবে চাঁদপুরকে ‘ইলিশের বাড়ি’ নামে ডাকা হয়।

চাঁদপুর জেলা আয়তন

চাঁদপুর জেলার মোট আয়তন ১,৭৪০.৬ বর্গ কিলোমিটার।

চাঁদপুর জেলা জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৪,১৬,০১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১,৪৫,৮৩১ জন এবং মহিলা ১২,৭০,১৮৭ জন। মোট পরিবার ৫,০৬,৫২১টি।

চাঁদপুর জেলায় ধর্মবিশ্বাস-২০১১

  • ইসলাম (৯৩.৫৪%)
  • হিন্দু ধর্ম (৬.৩৮%)
  • অন্যান্য ধর্ম (০.০৮%)

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৩.৫৪% মুসলিম, ৬.৩৮% হিন্দু এবং ০.০৮% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এছাড়া কিছু সংখ্যক ত্রিপুরা উপজাতি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে এ জেলায়।

চাঁদপুর জেলা অবস্থান ও সীমানা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২৩°০০´ থেকে ২৩°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩২´ থেকে ৯১°০২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে চাঁদপুর জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৯৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ২০৮ কিলোমিটার। এ জেলার দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলা ও নোয়াখালী জেলা; পূর্বে কুমিল্লা জেলা, উত্তরে কুমিল্লা জেলা, মেঘনা নদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী, মুন্সিগঞ্জ জেলা, শরীয়তপুর জেলা ও বরিশাল জেলা অবস্থিত। পদ্মা ও মেঘনা নদী দুটি চাঁদপুর শহরের কাছে এসে মিলেছে।

 

চাঁদপুর জেলা ইতিহাস

 

চাঁদপুর জেলা প্রতিষ্ঠাকাল

 

১৮৭৮ সালে ত্রিপুরা জেলা (পরবর্তীতে যা কুমিল্লা নামে পরিচিত) যে তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত হয়, তার মধ্যে চাঁদপুর অন্যতম। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলায় উন্নীত হয়।

 

চাঁদপুর জেলা নামকরণ

 

বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। এ অঞ্চলে তিনি একটি শাসনকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। ঐতিহাসিক জে এম সেনগুপ্তের মতে, চাঁদরায়ের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে চাঁদপুর।

 

অন্যমতে, চাঁদপুর শহরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন। তার নামানুসারে নাম হয়েছে চাঁদপুর।

 

চাঁদপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালের ১২ মে পাকবাহিনী হাজীগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ৫০ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এ গণহত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালালে পাকবাহিনীর ১৭ জন সৈন্য নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া, সূচীপাড়া এবং উনকিলার পূর্বাংশে বেলপুরের কাছে মিত্র বাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর সংঘর্ষে মিত্র বাহিনীর ১৩ জন সৈন্য এবং পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

চাঁদপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

 

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক: অঙ্গীকার (ভাস্কর্য), ফরিদগঞ্জ উপজেলার শহীদদের নাম ও ঠিকানা উৎকীর্ণ স্মৃতিফলক আমরা তোমাদের ভুলব না, মতলবের দীপ্ত বাংলাদেশ, চান্দ্রাকান্দি স্মৃতিসৌধ (সাদুল্লাহপুর, মতলব)।

 

  • বধ্যভূমি: রঘুনাথপুর বাজার (হাজীগঞ্জ), হামিদিয়া জুট মিলস প্রাঙ্গণ, রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিণ।
  • গণকবর: নাসিরকোট (হাজীগঞ্জ)।

 

চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং জেলা

 

দেশ-বিদেশে চাঁদপুরকে বিশেষভাবে উপস্থাপনের জন্য ২০১৫ সালের আগস্ট মাস হতে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেন তৎকালিন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মণ্ডল। ইলিশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর ব্র্যান্ডিং নাম দেন ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর । ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুরকে স্বীকৃতি দেয়। এ নামানুসারে একটি লোগো রয়েছে, যা অঙ্কন করেছেন এ জেলার সন্তান বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান। একইসাথে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর এর রূপকার হিসেবে স্বীকৃতি পান তৎকালিন (২০১৫-২০১৮) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মণ্ডল।

 

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

 

চাঁদপুর জেলা ৮টি উপজেলা, ৮টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৮৮টি ইউনিয়ন, ১০৪১টি মৌজা, ১৩৬৫টি গ্রাম ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

 

চাঁদপুর জেলা উপজেলাসমূহ

 

চাঁদপুর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

 

  1. কচুয়া
  2. চাঁদপুর সদর
  3. ফরিদগঞ্জ
  4. মতলব উত্তর
  5. মতলব দক্ষিণ
  6. শাহরাস্তি
  7. হাইমচর
  8. হাজীগঞ্জ

 

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা ব্যবস্থা

 

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৫৬.৮%। এবং বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৬৯.৮০%।  এ জেলায় রয়েছে:

 

  • বিশ্ববিদ্যালয় : ১টি
  • মেডিকেল কলেজ : ১টি
  • সরকারি কলেজ : ৯টি
  • বেসরকারি কলেজ : ৪৫টি(২৭টি এম.পি. ভুক্ত)
  • স্কুল এন্ড কলেজ : ২০টি
  • পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট : ৪টি
  • মেরিন ইনস্টিটিউট : ১টি
  • মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট : ১টি
  • টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ : ২টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ২৪৯টি
  • মাদ্রাসা : ১২৫৭টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১১২০টি
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : ১টি
  • নার্সিং ইনস্টিটিউট : ২টি
  • আইন(ল’) কলেজ : ১টি
  • হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ : ১টি
  • ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ : ১টি

 

চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

 

চাঁদপুর জেলায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে:

 

  • জেনারেল হাসপাতাল : ১টি (২৫০ শয্যাবিশিষ্ট)
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ৮টি
  • আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র -আইসিডিডিআর,বি : ১টি (icddr,b – বাংলাদেশের একমাত্র উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র)
  • মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র : ৩টি
  • চক্ষু হাসপাতাল : ৪টি
  • বক্ষব্যাধী হাসপাতাল : ১টি
  • ডায়বেটিক হাসপাতাল : ১টি
  • রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল : ১টি
  • রেলওয়ে হাসপাতাল : ১টি
  • বেসরকারি হাসপাতাল : ৭৩টি
  • বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিক : ৭টি
  • ডায়গনস্টিক সেন্টার : ১০৭টি

 

চাঁদপুর জেলা পত্র-পত্রিকা

 

  • দৈনিক: ১৫টি; চাঁদপুর কণ্ঠ, চাঁদপুর দর্পণ, চাঁদপুর জমিন, চাঁদপুর প্রবাহ, চাঁদপুর বার্তা, চাঁদপুর প্রতিদিন, চাঁদপুর সংবাদ, চাঁদপুর দিগন্ত, আলোকিত চাঁদপুর, চাঁদপুর খবর, মেঘনা বার্তা, ইলশেপাড়, মতলবের আলো, সুদীপ্ত চাঁদপুর, শাহরাস্তি বার্তা।
  • সাপ্তাহিক: ১২টি; দিবাচিত্র, রূপালী চিত্র, রূপসী চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, দিবাকণ্ঠ, মানব সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার, চাঁদপুর কাগজ, মতলব কণ্ঠ, নতুনের ডাক, চাঁদপুর সকাল, শাহরাস্তি।
  • পাক্ষিক: ২টি; কচুয়া কণ্ঠ, কচুয়া বার্তা।
  • মাসিক: ৩টি; ফরিদগঞ্জ বার্তা, পল্লী কাহিনী, হেরার পয়গাম।
  • অনলাইন পত্রিকা: ৪টি; চাঁদপুর টাইমস, চাঁদপুর নিউজ, চাঁদপুর ওয়েব, চাঁদপুর রিপোর্ট
  • অনলাইন টিভি: চাঁদপুর টেলিভিশন

 

চাঁদপুর জেলা দর্শনীয় স্থান

 

  • মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড
  • অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ
  • আলমগীরী মসজিদ
  • ইলিশ চত্বর
  • ওনুয়া স্মৃতি ভাস্কর্য
  • কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি
  • গজরা জমিদার বাড়ি
  • গুরুর চর
  • চাঁদপুর বন্দর
  • চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ
  • চাঁদপুর সরকারি কলেজ
  • ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ
  • চৌধুরী বাড়ি
  • তুলাতুলী মঠ
  • দুর্লভ জাতের নাগলিঙ্গম গাছ (জেলা প্রশাসক বাংলো)
  • নাওড়া মঠ
  • পর্তুগীজ দুর্গ, সাহেবগঞ্জ
  • ফাইভ স্টার পার্ক
  • বখতিয়ার খান মসজিদ
  • বলাখাল জমিদার বাড়ি
  • বড়কুল জমিদার বাড়ি
  • বড়স্টেশন মোলহেড নদীর মোহনা (চাঁদপুর সদর)
  • বোটানিকাল গার্ডেন
  • বোয়ালিয়া জমিদার বাড়ি
  • মঠখোলার মঠ
  • মনসা মুড়া
  • মত্‍স্য জাদুঘর
  • মিনি কক্সবাজার, চাঁদপুর
  • মেঘনা নদীর তীর
  • যাত্রা মুনির মঠ
  • রক্তধারা স্মৃতিসৌধ
  • রাগৈ মুঘল আমলের ৩ গম্বুজ মসজিদ
  • রামচন্দ্রপুর বড় পাটওয়ারী বাড়ী (ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন)
  • রূপসা জমিদার বাড়ি
  • লোহাগড় জমিদার বাড়ি
  • লোহাগড় মঠ
  • লুধুয়া জমিদার বাড়ি
  • শপথ চত্বর
  • শহীদ রাজু ভাস্কর্য
  • শাহ সুজা মসজিদ
  • শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ
  • শিশু পার্ক
  • সত্যরাম মজুমদারের মঠ
  • সাচার রথ
  • সাহাপুর রাজবাড়ি
  • হযরত শাহরাস্তি (রহ.) এর মাজার
  • হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ (৬ষ্ঠ বৃহত্তম)
  • শোল্লা জমিদার বাড়ি
  • স্বাধীনতা ভাস্কর্য – রক্তধারা, বড় স্টেশন ।

 

সম্পাদক : মোঃ মেহেদী হাসান